দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন কৌশিক দেবনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তাঁর আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে এজাহার ও অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ৭ জুলাই হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে কৌশিক দেবনাথকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৮ জুলাই পল্টন মডেল থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে মামলাটি করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত ১৮ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নফাঁসচক্রের মূলহোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো। নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে প্রার্থীদের প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন তাঁদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। এর বিনিময়ে আগাম মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো।
তদন্তে প্রশ্নফাঁসচক্রটির সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, চক্রটির নেটওয়ার্ক বিজি প্রেস থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি এনজিও পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় এই চক্র পরীক্ষার গোপনীয়তা ভেঙে রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩-এর ১১ ও ১৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এমএম/